নিগৃহীত নারী একগুচ্ছ ধর্ষণ আর নির্যাতন -পর্ব – ৪

এক শিশুকে মুখে গামছা বেঁধে ধর্ষণ করে এক নরপিশাচ । তাকে ধর্ষণ করে বরিশালের হিজলা উপজেলার চর নরসিংহপুরের ৩০ বছরের যুবক নাসির মাঝি । ২য় শ্রেণীর এই ছাত্রী একাকী গ্রামের একটি পানবরজের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাে । সেও যে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছে , তা তার জানা ছিলাে না । পথেই যে হায়েনারূপী কোনাে পুরুষ তার দিকে লােলুপ দৃষ্টি মেলে রেখেছে , তাও ছিলাে তার অজানা । মনে কোনাে ভয় বা আতঙ্কও ছিলাে না । হেঁটে যাচ্ছিলাে এক মনে । নরপশুটি তার সামনে এসে দাঁড়ায় । কৌশলে শিশুটিকে পানবরজের মধ্যে নিয়ে যায় । তড়িৎ মুখ বেঁধে ফেলে । মাটিতে ফেলে যৌনাকাঙ্খা পূরণ করে পাষন্ড পশুটি । চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকায় রােকসানা আক্তার নামের ২৯ বছর বয়সী স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়ে যায় পাষন্ড স্বামী । তাকে শ্বাসরােধ করে হত্যা করা হয় । রূপগঞ্জে বসবাসকারী এক পােশাককর্মীতে ধর্ষণ করে স্বপন বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তি । পূর্ব থেকেই স্বপন ওই যুবতীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলাে । কিন্তু তিনি তাতে সাড়া দেননি । ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে সে মেয়েটির ঘরে গিয়ে একাকি পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে । মাত্র পাঁচ বছর বয়সী আরেক শিশু ধর্ষণে শিকার হলাে । সাতক্ষীরার কাশেমপুর এলাকার ওই শিশুটি বাড়ির পাশে মনের আনন্দে একমনে খেলা করছিলাে । পাশের ছাত্রাবাস থেকে বেরিয়ে আসে এক হায়েনারূপী যুবক । সে ফুসলিয়ে শিশুটিকে ওই ছাত্রাবাসে তার কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে । শুভ শেখ নামের এক যুবক প্রেমের অভিনয় করে এক যুবতীকে দল বেধে ধর্ষণ করেছে । এই রােমহর্ষক ঘটনাটি পিরােজপুরের কৈবর্তখালী গ্রামে । চলার পথে শুভ সাথে পরিচয় হয় ওই যুবতীর । পরিচয় সূত্রে মােবাইল নম্বর আদান – প্রদান । এক পর্যায়ে প্রেম । এই প্রেম যে একপক্ষীয় তা কল্পনাও করেনি যুবতীটি । কথিত প্রেমিকার ডাকে সাড়া দিয়ে তার সাথে দেখা করতে যায় শহরের একটি জায়গায় । কথিত প্রেমিক শুভ তাকে মােটর সাইকেলে করে নিয়ে যায় কলাখালীর কৈবর্তখালী নামের একটি গ্রামে । ততােক্ষণে রাতের আঁধার নেমে আসে । তাকে একটি অন্ধকার বাগানে নিয়ে কথিত প্রেমিক শুভ তার কয়েকজন বন্ধু মিলে ধর্ষণ করে । রাত গভীর হলে তাকে একটি ঘরে নিয়ে যাওয়া হয় । সেখানেও সারারাত ধরে তার শরীরের ওপর চলে চরম পাশবিক নির্যাতন । এই ঘটনার ক্ষণকাল আগেও কী ওই যুবতী কী কল্পনাতেও নিয়েছিলাে তার জীবনে ঘটে যাবে এমন নির্মমতা । তাও আবার প্রেমিকপ্রবরের মাধ্যমে । সে কি মনে করেছিলাে আগ্নেগিরির গলিত লাভার তলে পড়ে তার শরীরটি অঙ্গারে পরিণত হবে । এর নামই কী প্রেম ? না , প্রেমের নামে নারীর পবিত্র সম্রোম লুণ্ঠন করা ! পুরুষদের এই ধরণের নারকীয় ঘটনা ঘটাতে বুক কী একটুও কাঁপে না ! বিবেকে একটুও কী রেখাপাত করে না ! সাবাশ পুরুষ মানুষ ! তােমরাই পারাে ! তবে আর কতােকাল ? একদিন পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটবেই ঘটবে । অপেক্ষায় থাকো । বরিশালের আরেকটি ঘটনা না বললেই নয় । উজিরপুরের শােলক কচুয়া মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক তপন মল্লিক । বয়স চল্লিশের কোঠা পার করেছে । তার কুদৃষ্টি পড়ে তারই এক ছাত্রীর ওপর । ৭ম শ্রেণী পড়ুয়া ওই ছাত্রীটিকে স্কুল থেকে ফেরার পথে জোর করে তুলে নিয়ে যায় ওই পাষন্ড শিক্ষক । তাকে বাসে করে নিয়ে যাচ্ছিল টুঙ্গিপাড়ার দিকে । যাত্রীদের সন্দেহের কারনে কিশােরী মেয়েটি মহাসর্বনাশ থেকে রক্ষা পায় । পুলিশের হাতে সােপার্দিত হয়লম্পট শিক্ষকটি । পরে কিন্তু শিক্ষকরূপী ওই নারীলােভীর আরাে কাহিনী বেরিয়ে আসতে শুরু করে । শিক্ষক তপন গ্রেফতারের পরপরই অনার্স পড়ুয়া এক তরুণী তার বাড়িতে এসে হাজির । স্ত্রীর মর্যাদা দাবী করে । জানা গেলাে , অনেক আগেই কাউকে না জানিয়ে ওই অনার্স পড়ুয়াকে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করে শিক্ষক তপন । তাদের বিয়েটা ছিলাে প্রেমের । পরবর্তিতে তপন চোখ পাল্টে ফেলে । মনজিয়া আকতার রূপালী মাত্র ২২ বছর বয়সী গৃহবধু । বগুড়ার নন্দীপড়ার বাসিন্দা । তার স্বামী মােরশেদুল ইসলাম দেখালেন ‘ পুরুষ ’ কতাে ক্ষমতাধর ! দেখালেন স্ত্রীর কাছে কীভাবে ‘ বীরত্ব দেখাতে হয় ! প্রায় সময়ই সে তার স্ত্রীকে নানাভাবে নির্যাতন করতাে । স্ত্রী নির্যাতনে সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতাে । নির্যাতনের নতুন কৌশল হিসেবে সে তার স্ত্রীকে জোর করে মাথা ন্যাড়া করে দেয় । স্ত্রীর মাথা ন্যাড়ার মাধ্যমে সে তার পৌরুষ প্রদর্শনে সক্ষম হয় । দশম শ্রেণীর এক কিশােরীকে আল আমিন নামের এক নরপশু ধর্ষণ করে । ইরাক প্রবাসী আল আমিন দুই মাসের ছুটিতে বাড়িতে এসেই ধর্ষণের মাধ্যমে জানান দিলাে , সে একজন পুরুষ । ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার এক গ্রামের ওই ছাত্রীকে টার্গেট করে তাদের বাড়িতে যায় । ছাত্রীর অভিভাবকদের কাছে বিয়ের প্রস্তাবও দেয় । উদার মনে রাতে তাকে থাকার ব্যবস্থা করা হয় । কিন্তু এই প্রবাসীর মনে ছিলাে শয়তানী । রাত্রে যখন বাড়ির সকলে ঘুমেমগ্ন , ঠিক তখনই কৌশলে ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় সে । দিনাজপুরে প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ করতে বিবেকে এতটুকুও বাধেনি দিনাজপুরের শিবরামপুরের ৩০ বছর বয়সী লম্পট মতিউর রহমানের । এক সন্তানের জননী ফরিদপুরের আলীপুর মহল্লার ২৯ বছরের গৃহবধু আকলিমা বেগম । তিনি একটি ক্লিনিকে কাজ করতেন । পূর্বে তার একটি বিয়ে হয়েছিলাে । সে বিয়ে অবশ্য টেকেনি । পরে নিজেই পছন্দ করে বিয়ে করেন । কে বা কারা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে লেকপাড়ে ফেলে যায় । ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী সুমাইয়া । ঝালকাঠিতে সৎ বাবার সংসারে তার বাস । মাত্র ১৩ বছর বয়সে সে একটি অবৈধ সন্তানের মা হলাে ! সুমাইকে তার সৎ বাবা অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করতাে । মাঝে – মধ্যে সে নিজেও তাকে ধর্ষণ করতাে । এক পর্যায়ে ওই স্কুল ছাত্রীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে । পরবর্তিতে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেয় । জুয়া খেলার টাকা স্ত্রীকে জোগাড় করে দিতেই হবে । এটাই জুয়াড়ু স্বামী মজিবর মােল্লার অঘােষিত নিয়ম । মজিবর মােল্লার বয়স ৫০ । তাদের ৩০ বছরের সংসার । সংসারে রয়েছে দুটি সন্তান । জুয়াড় জুয়া খেলে প্রায় নিঃস্ব বরগুনার আমতলীর উত্তর টিয়াখালী গ্রামের এই মজিবর । সবসময় থাকে নগদ টাকার টানাটানি । স্ত্রী ছােকানুর বেগমকে চাপ দেয় বাবার বাড়ীর জমি বিক্রি করে টাকা আনতে । সেই টাকায় সে জুয়া খেলবে ! এবার । বেঁকে বসেন ছােকানুর বেগম । তিনি আর টাকা – পয়সা দেবেন না বলে ছাপ জানিয়ে দেন স্বামীকে । আর কোথায় যাবে ! জুয়াড় স্বামীর মাথায় তখন আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে । শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন । মারতে মারতে পাষন্ড জুয়াড় তার স্ত্রীর হাত ভেঙেই ফেলে । কি বলা যাবে এ ঘটনাকে ? মাত্র দুই মাস আগে বিয়ে হওয়া নববধু শমারমিন আক্তার সুমি । ননায়াখালীর উত্তর মল্লিকার সােলায়মান তার স্বামী । বিয়ের পরের দিন থেকেই নির্যাতন শুরু । দাবী একটাই ‘ যৌতুক ‘ । যৌতুক দিতে পারেনি সুমির পরিবার । নির্যাতনের মাত্রা এতােই বেড়ে যায় যে , হাতের মেহেদী নিয়েই শেষ পর্যন্ত মরতেই হলাে ওই নববধুকে । তাকে পিটিয়ে হত্যা করলাে যৌতুকলােভী তারই স্বামী দেবতা ।

রুকসানা রহমান

Share on Social

6 thoughts on “নিগৃহীত নারী একগুচ্ছ ধর্ষণ আর নির্যাতন -পর্ব – ৪

  1. সমাধানের উপাই যদি কিছু থাকে সেইটা উপর আলোকপাত করুন দয়াকরে।

  2. I love your blog.. very nice colors & theme. Did you design this website
    yourself or did you hire someone to do it for you?
    Plz answer back as I’m looking to construct my
    own blog and would like to find out where u got this
    from. kudos

Leave a Reply

Your email address will not be published.