নবাব সিরাজউদ্দৌল্লা

জানুয়ারি ১৯৬৭ সালে ঢাকায় নবাব সিরাজউদ্দৌল্লা চলচ্চিত্রের এর পোস্টার।

খান আতাউর রহমান ছবিটি পরিচালনা করেন।১২ জানুয়ারি ১৯৬৭ সনে ছবিটি মুক্তি পায়। ছবিটিতে নবাব সিরাজউদ্দৌল্লা চরিত্রে অভিনয় করেছেন আনোয়ার হোসেন। ছবিটি মুক্তির পর অভিনেতা আনোয়ার হোসেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ভূবনে নবাব সিরাজউদ্দৌলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের বাংলার মুকুটহীন নবাব খ্যাতি লাভ করেন।

সাধারণ মানুষের মনের নবাব আজও আনোয়ার। যাঁরা আনোয়ারের অভিনয় দেখেছেন, শুনেছেন সেই হূদয় বলকানো সংলাপ:

বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার মহান অধিপতি, তোমার শেষ উপদেশ আমি ভুলিনি জনাব। তুমি বলেছিলে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারীদের প্রশ্রয় দিয়ো না, তুমি বলেছিলে সুযোগ পেলেই তারা দেশ কেড়ে নেবে, আমি তাদের প্রশ্রয় দেব না’; তাঁরা জেনেছেন কিসের জন্য সিরাজ জীবন দিয়েছেন।

তিনি যখন গলা কাঁপিয়ে সংলাপ দিতেন, ‘আমিই বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা’; মানুষের মনে বিশ্বাস আর সমীহ দুটোই জাগতো।

আনোয়ার হোসেন তাঁর অসাধারণ আন্তরিক অভিনয় দিয়ে দর্শকের মনে সেই সুপ্ত নহর জাগাতে পেরেছিলেন।

নবাব সিরাজউদ্দৌলাছিল বাংলা চলচ্চিত্র জগতের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক ছবি। সময়টাও ছিল ছবিটির ব্যাপারে আবেগজাগানিয়া। দ্বিভাষিক চলচ্চিত্র ছিলো নবাব সিরাজউদ্দৌলা।নবাব সিরাজউদ্দৌলাউর্দুতে নির্মিত হয়েছিল। পশ্চিম পাকিস্তানে পূর্ব পাকিস্তানের তুলনায় অনেক ব্যাবসা সফল হয় ছবিটি। এর উর্দু ভার্সন মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়েছিল। অথচ সিনেমার তৈরির ইতিহাসের গালগল্পতে সবাই তখনকার দফা আন্দোলনের অনুপ্রেরনা যোগ করে দিচ্ছে।

১৯৬৬ সালের ছয় দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার পথ ধরে দেশ তখন ফুঁসছিল। ফলে স্বাধীনতার স্বপ্ন প্রগাঢ় হচ্ছিল দেশবাসীর মনে।বাংলার ভাগ্যাকাশেযেদুর্যোগের ঘনঘটাদেখা দিয়েছিল, তা কাটানোর একটা স্বপ্নের বীজও যেন বোনা হচ্ছিল শেষ স্বাধীন নবাবের শেষ সংলাপের পথ ধরে।

স্বাধীনতা জাতীয়তাবোধে উদ্দীপ্ত ছবিতে ঐতিহাসিক উপাদানের চেয়ে নাটকীয়তা ছিল বেশি। বাঙালি এই ছবির মধ্যেই খুঁজে পেয়েছিল মুক্তির স্বাদ। আর ছবির সাফল্যে অভিনেতা আনোয়ার হোসেন যেন বনে গেলেন সত্যিকারেরসিরাজউদ্দৌলা’—বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব।

পুরোনো পারিবারিক এলবামে পোস্টারটি ভাঁজ করে রাখা ছিলো। ছবিটির পেছনে (প্রয়াত মহিউদ্দিন খালেদ) হাতে লেখা ছিলোএকূল ভাঙে ওকূল গড়ে এইতো নদীর খেলা…”

সংগৃহিত

জাঁহাপনা আপনার জন্য এবং সবার প্রতি রইলো অবিরত শ্রদ্ধা ভালোবাসা।

# আনোয়ার হোসেন ঘোড়া চালাতে জানতেন না তখন আব্বু উনার হয়ে শুটিংএর অংশটুকু করেন এবং শুরুতেই ইংরেজের ভূমিকার কাজটাও আব্বুর করা।

Share on Social

9 thoughts on “নবাব সিরাজউদ্দৌল্লা

  1. Oh such great informations Ruksana Rahman sister proud of you! Keep it up 👍👍👍🙏🙏🙏💓💓💓💓

  2. সময়মতো কারো মেধা-মনন যদি বিকশিত হয়, তাহলে কোনক্রমেই তা আটকিয়ে রাখা যায় না। এ কারণেই হয়তো খান আতা ও আনোয়ার হোসেনের মতো কিংবদন্তি’র সফলতাকে আটকে রাখা সম্ভবপর হয়নি।
    ১৯৬৬ এর ছয়দফা এবং ১৯৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান, এরই মাঝে ১৯৬৭-তে খান আতা’র সাহসী নির্মাণ নবাব সিরাজউদ্দৌলা।
    চরিত্র বাছাইয়ে তাঁর ছিল এক যাদুকরী ক্ষমতা। এ কারণেই জন্ম হয়েছিল নবাব সিরাজউদ্দৌলা রূপী আনোয়ার হোসেনের।
    জনশ্রুতি আছে যে নবাব সিরাজউদ্দৌলা মুক্তি পরবর্তী সময়ে যখন আনোয়ার হোসেন পশ্চিম পাকিস্তান গিয়েছিলেন, তখন পশ্চিম পাকিস্তানের জনসাধারণ আনোয়ার হোসেন-কে দেখে তাদের মতো করে বলেছিলেন “নবাব সাহেব এসে গেছেন”। তার মানে খান আতা’র দূরদর্শী নির্দেশনায় কি রকম অভিনয় দক্ষতা দেখিয়েছিলেন, যে আনোয়ার হোসেন-কে দেখে পাকিস্তানি’রা এ রকম সম্মানীত সম্বোধনে বরণ করে নিয়েছিলেন। আমরা বাস্তবের নবাবকে দেখিনি, দেখেছি খান আতা’র নবাব আনোয়ার হোসেন-কে। কেমন মেধাসম্পন্ন হলে এ ধরনের নিখুঁত চিত্রনাট্যের মাধ্যমে নবাব চরিত্রটি সেই ছয়দফা ও গণ অভ্যুত্থান এর মতো ভয়াবহ রাজনৈতিক দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে একটি প্রতিবাদী এবং কালজয়ী ছবি নির্মাণ করা যায়! নিজ দেশের প্রতি প্রচন্ডরকম ভালবাসা থেকেই তিনি “নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আবার তোরা মানুষ হ” ছবিটি তৈরী করেছিলেন। তাঁর শিরা-উপশিরায় ছিল সৃষ্টিশীল একটি সম্মোহনী শক্তি, যা তাঁকে প্রতিনিয়তই তাগিদের উপর রাখতেন।
    একদিন…
    (বাকী অংশ পরবর্তী পোস্টে)

  3. (পূর্ববর্তী অংশের পর)
    একদিন তাঁরই বোন মুক্তা অর্থাৎ তোমার মুক্তা ফুফু’র বিয়ে, ভাগ্যক্রমে সেই বিয়েতে আমি এবং প্রয়াত ‘বাবা’ (নজরুল শব্দকোষ সহ অনেক সফল লেখার লেখক আবুল কালাম মুস্তফা) উপস্থিত ছিলাম। কাজী সাহেব বিয়ে পড়াবার জন্য বড়ভাই খান আতাউর রহমানের উপস্থিতির জন্য সামিয়ানার নীচে জামাইসহ অপেক্ষমান। তাঁর উপস্থিতির ব্যাপারে সবাই যখন উদগ্রীব, তখন দেখলাম তাড়াহুড়ো করে কাজী সাহেবের সামনে এসে দু:খপ্রকাশের মাধ্যমে বিয়ে কার্য সম্পাদনের অনুরোধ জানাচ্ছেন সাবলীলভাবে। মনে হচ্ছিল এটাও একটি শুটিং পর্ব। কিন্তু তা ছিল বাস্তব জীবনেরই পরিচিত একটি দৃশ্য। দৃশ্যগুলি দেখে আমার কেবলই মনে হয়েছে যে প্রথিতযশা চিত্র নির্মাতা খান আতাউর রহমান তাঁর অনুপস্থিতকালীন সময়টিতে অবশ্যই কোনো না কোনো সৃষ্টিশীল প্লট নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। যা বেরসিক কাজী সাহেবের জরুরী তলবে তাঁর চিন্তাশীলতায় ফাটল ধরিয়ে বিয়ের মঞ্চে নিয়ে আসতে বাধ্য করেন। যাদের জীবনটাই দেশপ্রীতি সৃষ্টশীলতায় মোড়ানো, তাঁদেরকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারে না। তাইতো তাঁর অভিনয় দক্ষতা ও নিখুঁত নির্মাণশৈলী-তে প্রকাশ পেয়েছে অবিস্মরণীয় বহুকীর্তি। তিনি একাধারে চিত্রনাট্যকার, সংলাপ ও সঙ্গীত রচয়িতা, সঙ্গীত পরিচালক, সুর সংযোজক, সঙ্গীত শিল্পী, চিত্র পরিচালকসহ একটি ছবির সকল কর্মকান্ডের সফল নির্দেশক। শুধুমাত্র ক্যামেরায় সকল মুন্সিয়ানার দায়িত্বটি ছেড়ে দিয়েছিলেন ছোটভাই খান আরিফুর রহমানের জন্য। বড় ভাই এর সকল ইচ্ছাপূরণে ছোটভাই প্রাণান্ত চেষ্টা দিয়ে পূরণ করেছেন সকল নির্দেশনা।
    সেই সময় অনেক গুণী চিত্রগ্রাহকের মধ্যে (এম এ সামাদ, বেবী ইসলাম, মাহফুজুর রহমান, আফজাল চৌধুরী সহ আরো অনেকে)
    কামিয়াব হয়েছিলেন তাঁর দক্ষ চিত্রগ্রহণের বদৌলতে।
    নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছবির প্রথম অংশেই ইংরেজরূপী তোমার বাবা ঘোড়ার পিঠে থেকে গরীব প্রজাকে চাবুকপেটানোর দৃশ্যে দারুণ অভিনয় করে দর্শকহৃদয়ে দাগ কাটতে সক্ষম হয়েছিলেন (চিত্রগ্রাহক খান আরিফুর রহমান)। যারা এ ছবির মাধ্যমে অভিনেতা আনোয়ার হোসেনকে মনে রেখেছেন বাংলার শেষ নবাব হিসেবে, আমার বিশ্বাস এ ছবির ছোট্ট চরিত্রের এই নির্যাতক ইংরেজরূপী খালুকেও সবাই মনে রেখেছেন তাঁদের স্মৃতিপটে।
    তাঁদের সেই জৌলুসপূর্ণ সমৃদ্ধ সময়টিকে, ডিজিটাল এ যুগে খুঁজে পাওয়া যাবে না কোনদিনও। প্রত্যাশা করাও নিরর্থক।
    তাঁদের কাজগুলোকে যদি বাংলাদেশের আর্কাইভে সংরক্ষিত থাকে, তাহলে সেগুলি পুনরায় বর্তমান প্রজন্মের কাছে উন্মোচনের ব্যবস্থা করা গেলে অনেক উপকৃত হতো বলে আমার বিশ্বাস।
    তাঁদের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে পরকালীন জীবন সুখের ও শান্তির হোক, দোয়া করছি।

  4. নবাব সিরাজুদ্দৌলার সিনেমায় অনেক কিছু শেখার আছে। যেমন,
    সুভাকাংখি সবাই হয়, কিন্তু উপকারি বা, সহ যোদ্ধা কজন হয়।
    তাহলে তো মির জাফর সিরাজউদ্দৌলার খুব কাছের মানুষ ছিল মির জাফর।
    সুতরাং সবাই সুভাকাংক্খী হয় না।

  5. একূল ভাঙে ওকূল গড়ে এইতো নদীর খেলা…” আমাদের উচিত আমাদের সংস্কৃতি নিজদের সংরক্ষণ করা, সবার নিকট তা পৌঁছে দেয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published.